পিরিজপুর মডেল

কিশোরগঞ্জ জেলার অধীন বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর একটি কৃষি সমৃদ্ধ ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের একটি এতিহ্যবাহী বাজার “পিরিজপুরবাজার” রাজধানী ঢাকা হইতে ৯৫ কি.মি দূরে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ হাইওয়ের উপর অবস্থিত। ফলমূল, শাক-সবজি ও দানাদার খাদ্য শস্যে উদ্বৃত্ত অত্র ইউনিয়নের কৃষিপণ্য রাজধানী ঢাকা, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাইকারী বাজার সমূহে মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারদের মাধ্যমে বিপণন হয়ে থাকে।

পিরিজপুর ইউনিয়নের ফসলের নিবিড়তা প্রায় ৪০০% এবং পিরিজপুর বাজারের বাৎসরিক কৃষি পণ্যের লেনদেন প্রায় ১০০ কোটি টাকা। রবি, খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে বৎসরে প্রায় ২৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজি (পরিমাণ : ৬০,০০০ মে.টন) উৎপাদিত হয়। কিন্তু শস্য নিবিড় অত্র ইউয়িনের কৃষকগণ অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত করছে অন্যদিকে কীটনাশক ব্যবহারকারী ও ভোক্তা সাধারণের মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। পিরিজপুর বাজারে কৃষক, পাইকার, ক্রেতা-বিক্রেতাদের দ্বারা সৃষ্ট কৃষিপণ্যের উচ্ছিষ্টাংশ বাজার সহ আশপাশের পরিবেশ দূষণ ও বহুবিধসংক্রামক রোগ-বালাইছড়াচ্ছে। এরই প্রেক্ষাপটে জৈব সার উৎপাদন, ব্যবহার ও বিপণনের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের উপর কৃষকদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবীতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি-২০৩০ এবং বর্তমান সরকারের জাতীয় কৃষিনীতি ও খাদ্যনীতি বাস্তবায়নের নিমিত্ত নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমরা “পিরিজপুর মডেল” নামে একটি কৃষক সংগঠন প্রতিষ্ঠার তাগিদ অনুভব করি। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর, ২০১৮ সালেআমরা “পিরিজপুর মডেল” নামে একটি কৃষক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। পিরিজপুর বাজারের পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন (greenbangla.com.bd) ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জাতীয় পর্যায়ের বাজার ব্যবস্থার সাথে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

মূলত ‘পিরিজপুর মডেল’ একটি সমন্বিত প্রযুক্তি নির্ভর নিরাপদ কৃষি উৎপাদন আন্দোলন যেখানে কৃষি উৎপাদন, বিপণন, পরিবেশ সুরক্ষা, নারী অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এ আন্দোলনের ফসল ইতিমধ্যেই এখানকার কৃষক ও ভোক্তা আহরণ করতে শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য ‘পিরিজপুর মডেল’ এর ইতিবাচক ফলাফল সমূহ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে সমাজের অনগ্রসর কৃষক সমাজের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করা।

[everest_form id=”264″]